ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন

নভেম্ভর ৪, ২০১৩ তে ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

[ অ+ ] /[ অ- ]

banner_leftসংসদ রিপোর্টার:

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংদীয় স্থায়ী কমিটি সোমবার সংসদে তাদের তৃতীয় রিপোর্ট উত্থাপন করেছে।

কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলী ওই রিপোর্ট উত্থাপন করেন।

এতে প্রতিরক্ষা নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে কমিটির সদস্যদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেছে কমিটি।

এর আগে কমিটি ২০১০ সালের ২৭শে জুন প্রথম রিপোর্ট ও ২০১১ সালের ২৪ শে নভেম্বর দ্বিতীয় রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করে। তবে কমিটির বিশেষ সিদ্ধান্তে প্রতিরক্ষা নীতিমালা নিয়ে কমিটির ৮ম ও ৯ম বৈঠকে যে আলোচনা হয় তা অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। এটা বর্তমান সংসদের একটি বিরল ঘটনা।

তবে সোমাবার রিপোর্টে ওই দুটি বৈঠকের কার্যবিবরনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খসড়া প্রতিরক্ষা নীতিমালায় সংসদীয় কমিটির সভাপতিসহ ৭ জন তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে বিরোধী দলীয় সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ লিখিতভাবে তাদের সুপারিশ দেন। এছাড়া কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন সুনামগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এম এ মান্নান।

কমিটির ৮ম বৈঠকে তিনি ১০টি সুপারিশ উত্থাপন করেন। ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার তার পরামর্শে পেশাদার সৈনিক সমন্বয়ে আধুনিক অস্ত্র সংবলিত শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্ল্যেখ করেন যে, প্রতিরক্ষা নীতির মৌল নীতি হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী রাজনীতিতে অংশগ্রহন করবে না-এটা থাকা উচিত। এইচএম এরশাদ তার ৫টি সুপারিশে বলেন, আক্রান্ত হলে যাতে অন্তত ২১ দিন শত্রুর সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব হয় এমন শক্তি সম্পন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনী তৈরির নীতি আমাদের প্রয়োজন। তিনি বলেন, কেউই স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নয়। এই ধারনার ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার নীতি প্রনয়ন করা যেতে পারে। এছাড়া ন্যাশনাল ডিফেন্স এ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম তার ৫টি মতামতে বলেন, বিমান প্রতিরক্ষা অপরিহার্য। বিমান বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো সাধারন মানুষকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি বলেন, সামঞ্জস্যপুর্ন পররাষ্ট্র নীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এম এ মান্নান তার ১০টি সুপারিশে বলেন, প্রতিরক্ষা নীতিতে দেশজ দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপুর্ন। পররাষ্ট্র নীতি সার্বিকভাবে বন্ধুত্ব আকাংখী হলে প্রতিরক্ষা নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারন সহজ নয়। প্রতিরক্ষা নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত অসাম্প্রদায়িকতা। সব ধর্মীয় ও নৃতাত্তীক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এতে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাতিসংঘের প্রয়োজনে শান্তিরক্ষার জন্য বিশেষ ফোর্স তৈরি করার কথা বাংলাদেশ পর্যালোচনা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে সাধারন মানুষের নেতিবাচক ধারনা অপনোদনের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয় এ নীতিতে অর্ন্তভুক্ত করা যেতে পারে।

মঞ্জুর কাদের কোরাইশী তার চারটি সুপারিশে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের কাজ সম্পর্কে মানুষকে জানার সুযোগ দিতে হবে। তাহলে নেতিবাচক ধারনা হ্রাস পেতে থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীর মুল দায়িত্ব পালনে যথাযথ শৃংখলা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মুজিবুল হক তার ৫টি সুপারিশে বলেন, মেধাসম্পন্ন যুবাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ি জনবল সংবলিত ও দক্ষতা সম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী আবশ্যক।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রতিরক্ষা নীতি সম্পর্কে বলেন, সীমিত সম্পদের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা নীতি প্রনয়ন করা সমীচীন হবে। দেশের যুব সমাজকে যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগাতে হবে। এ কারনে এসএসসি বা এইচএসসি পাসের পর শিক্ষার্থীদেরকে এক বছরের সামরিক ট্রেনিং করিয়ে উপযোগী করে রাখা যেতে পারে।

কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলী তার সুপারিশে বলেন,রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। প্রতিরক্ষা নীতি রাষ্ট্রের অন্য কোন নীতির সম্পুরক অথবা ওই নীতি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে না। প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে আপোসকারি রাষ্ট্রের অন্য যে কোন নীতি গ্রহনযোগ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, দলিলটির আকার আরও ছোট ও সংক্ষেপিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরিণ নিরাপত্তা হুমকিসমুহ একেবারেই বিবেচনা করা হয়নি। এটা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশে বহি:শত্রু অপেক্ষা অভ্যন্ত্ররিণ নিরাপত্তা হুমকিসমুহ অধিকতর বাস্তব ও তা মোকাবেলা করা অধিক না হলেও কম জরুরি নয়। এই হুমকিসমুহ দেশের সংহতি, আঞ্চলিক অখন্ডতা, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মূল মুল্যবোধ বিনাশী হতে পারে। তাই প্রতিরক্ষার পটভুমিতে এই হুমকিসমুহ যথাসম্ভব চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করার দিক নির্দেশনা থাকতে হবে।

Print Friendly
DSE
Scroll To Top